1. admin@netroalap.com : admin :
নেত্রকোনার বিরিশিরি ভ্রমণ গাইড, ট্যুর প্ল্যান, যাতায়াত, হোটেল, দর্শনীয় স্থান, খরচ এর বিস্তারিত - নেত্র আলাপ
রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫, ১২:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
খুলনা টু ঢাকা এবং ঢাকা টু খুলনা সকল ট্রেনের যাওয়া আসার সময়সূচি নেত্রকোনা জেলার সকল আবাসিক হোটেলের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর চুয়াডাঙ্গা টু ঢাকা এবং ঢাকা টু চুয়াডাঙ্গা সকল ট্রেনের যাওয়া আসার সময়সূচি নেত্রকোনার সকল প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বার, মোবাইল নম্বর এবং রোগী দেখার সময়সূচি নেত্রকোনার সকল ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বার, মোবাইল নম্বর এবং রোগী দেখার সময়সূচি নেত্রকোনার সকল ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বার, মোবাইল নম্বর এবং রোগী দেখার সময়সূচি নেত্রকোনার সকল ব্যথা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বার, মোবাইল নম্বর এবং রোগী দেখার সময়সূচি নেত্রকোনার সকল ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বার, মোবাইল নম্বর এবং রোগী দেখার সময়সূচি নেত্রকোনার সকল পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বার, মোবাইল নম্বর এবং রোগী দেখার সময়সূচি নেত্রকোনার সকল লেজার সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বার, মোবাইল নম্বর এবং রোগী দেখার সময়সূচি

নেত্রকোনার বিরিশিরি ভ্রমণ গাইড, ট্যুর প্ল্যান, যাতায়াত, হোটেল, দর্শনীয় স্থান, খরচ এর বিস্তারিত

জুনায়েদ হাসান রানা
  • Update Time : শনিবার, ২২ জুন, ২০২৪
  • ৯২৩ Time View

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা জেলার একদম উত্তরে ভারতের মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের পাদদেশে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে এক টুকরো স্বর্গ ‘সুসং দুর্গাপুর’। সাদা মাটির এই অনিন্দ্য সুন্দর জায়গাটি ভারতের অপরূপ স্থান মেঘালয় রাজ্য থেকে উৎপন্ন হয়ে বিজয়নগর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকারী সোমেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত। এ স্থানটিতে সুউচ্চ পাহাড়, টিলা, নদ-নদী, হ্রদ এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মিশেলে তৈরি হয়েছে স্নিগ্ধ, শান্ত এবং চারদিকে সবুজে আবৃত মনকাড়া পরিবেশ। এখানে বয়ে গিয়েছে স্বচ্ছ পানির সোমেশ্বরী নদী, আর দিগন্ত হারিয়েছে আকাশ ছোঁয়া সবুজ পাহাড়ে। ছোট্ট একটি জনপদ, যার পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সৌন্দর্য, স্নিগ্ধতা।

.

কোথাও নিশ্চিন্তে ট্যুর দিতে হলে সে জায়গা সম্পর্কে আগেই বিস্তারিত ইনফরমেশন জানা জরুরী। তাই ভ্রমণ গাইড, ট্যুর প্ল্যান, যাতায়াত, হোটেল, খাবার, দর্শনীয় স্থান, খরচ জানা না থাকলে নিশ্চিন্তে ট্যুর উপভোগ করা সম্ভব হয়ে উঠে না। এ সমস্যা দূর করতেই পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের সুবিধার্থে আমরা নেত্রকোনার বিরিশিরি ভ্রমণ গাইড, ট্যুর প্ল্যান, যাতায়াত, হোটেল, খাবার, দর্শনীয় স্থান, খরচ এখানে উপস্থাপন করেছি। এখন থেকে আর কারো কাছে জিজ্ঞেস করে হয়রান হতে হবে না আপনার। ঘরে বসেই এক ক্লিকে পেয়ে যাবেন নেত্রকোনার বিরিশিরি ভ্রমণ গাইড, ট্যুর প্ল্যান, যাতায়াত, হোটেল, খাবার, দর্শনীয় স্থান, খরচ। যেকোনো মূহুর্তে নেত্রকোনার বিরিশিরি ভ্রমণ গাইড, ট্যুর প্ল্যান, যাতায়াত, হোটেল, খাবার, দর্শনীয় স্থান, খরচ জানতে ভিজিট করুন (netroalap.com/birishiri-tour) এই লিংকে।

.

দুর্গাপুরের বিরিশিরিতে ট্যুরে গিয়ে যা যা দেখবেন / বিরিশিরির দর্শনীয় স্থানসমূহ:

.

বিরিশিরিতে ঘোরার মতো দর্শনীয় স্থানের অভাব নেই। বিরিশিরি এমন একটি পর্যটন স্পট, এখানে যেদিকেই তাকাবেন, দেখতে পাবেন নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমণ্ডিত দর্শনীয় স্থান। বিরিশিরির উল্লেখযোগ্য কিছু দর্শনীয় স্থান, যা ট্যুরে গিয়ে দেখবেন:

.

১। বিজয়পুরের চীনা মাটির পাহাড় / সাদা মাটির পাহাড়

২। নীল-সবুজ জলের হ্রদ

৩। গারো পাহাড়

৪। সোমেশ্বরী নদী

৫। সাধু যোসেফের ধর্মপল্লী

৬। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমী

৭। সুসং দুর্গাপুরের জমিদার বাড়ি

৮। হাজং মাতা রাশমণি স্মৃতিসৌধ

৯। টংক আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ

১০। রানীখং গির্জা

১১। কমলা রাণীর দীঘি

১২। বিজয়পুর বর্ডার এবং বিজিবি ক্যাম্পের সামনে নৌভ্রমন

১৩। পুটিমারি মিশন

১৪। কমলা বাগান

১৫। ওয়াচ টাওয়ার

১৬। কংস নদী

১৭। ফান্দা ভ্যালি

১৮। মণিসিংহ জাদুঘর

১৯। গারো, হাজংসহ নানা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আবাসস্থল

২০। বিজয়পুর জিরো পয়েন্ট

২১। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ট্রেনিং নেওয়ার জন্য তৈরি কয়েকটি পিলার

২২। আত্রাখালি নদী

২৩। চন্ডীগড় গ্রামের মানবকল্যাণকামী অনাথালয়

২৪। কুল্লাগড়ার রামকৃষ্ণ মঠ

২৫। দুর্গাপুর সদরের দশভুজা মন্দির

২৬। বিজয়পুরের স্থলশুল্ক বন্দর

২৭। বিরিশিরি বধ্যভূমি

২৮। রানীখং উচ্চ বিদ্যালয়

.

বিসিএসসহ সকল চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির টিপস এবং সাজেশন দেখুন এখানে

.

বিরিশিরি ভ্রমণের উপযুক্ত সময়:

.

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নেত্রকোনার বিরিশিরি ট্যুরের নির্দিষ্ট কোন সময়সীমা নেই। বছরের সব মাসেই এটি পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকে। তবে পাহাড়ী ঢল আর বৃষ্টির কারণে বর্ষাকালে বিরিশিরি চরম মোহনীয় রূপ ধারণ করে। বর্ষাকালের বিরিশিরি অসাধারণ কিংবা ভয়ংকর সুন্দর। বর্ষা নামার সাথে সাথে সোমেশ্বরী নদীর কূলে অবস্থিত বিরিশিরির সৌন্দর্য বেড়ে যায় কয়েক গুণ। বর্ষায় সোমেশ্বরী নদী তার উত্তাল চঞ্চল রূপ মেলে ধরে, তখন বিরিশিরির যৌবনের সৌন্দর্য দেখতে ভীড় জমায় এসে পর্যটকরা। কাছের পাহাড় থেকে নেমে আসা উত্তাল ঢলের রূদ্ধরূপ বর্ষায় বিরিশিরি ঘুরতে আসা ভ্রমণপিপাসুদের দেখায় তার বন্য সৌন্দর্য।

তবে বর্ষাকালে ঝামেলাও কিন্তু কম নয়। বিরিশিরির বেশীরভাগ রাস্তাঘাটই মাটির হওয়ায় বৃষ্টির দিনে কাঁদামাটির রাস্তায় চলাচল করা অনেকটাই ঝামেলার। সেই হিসেবে যারা পথের ঝামেলায় না পড়তে চান, তাদের জন্য শীতের শেষ দিকেই বিরিশিরি ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। আর যারা রাস্তার ঝামেলা সহ্য করেও বিরিশিরির চরম বন্য সৌন্দর্য দেখতে চান, তাদের জন্য বর্ষাকালই উত্তম।

.

বিরিশিরিতে যাওয়ার উপায়:

.

বিরিশিরি ভ্রমণে যেতে হলে, ২ ধাপে সেখানে পৌঁছাতে হবে:

প্রথমে ঢাকা থেকে দুর্গাপুর

তারপর দুর্গাপুর থেকে বিরিশিরির স্পটগুলোর উদ্দেশ্যে যাত্রা।

.

⏩ ঢাকা থেকে দুর্গাপুর:

ঢাকা থেকে দুর্গাপুরে চারভাবে পৌঁছানো যায়। বাসের মাধ্যমে দুইভাবে এবং ট্রেনের মাধ্যমে দুইভাবে।

.

(১) দুর্গাপুরগামী বাসে চড়ে ঢাকা টু দুর্গাপুর:

.

দুর্গাপুরে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় ঢাকার মহাখালী থেকে সরাসরি দুর্গাপুরের বাসে ভ্রমণ। এতে খরচ অনেকটাই কম হয়। ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সুসং দুর্গাপুরের উদ্দ্যেশে রাতে এবং দিনে বেশ কিছু বাস চলে। এই বাসগুলো আপনাকে দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র তালুকদার প্লাজার সামনে নিয়ে নামাবে। এই বাসগুলোতে সাধারণত ৩০০-৩৫০ টাকা ভাড়া নেয়। এই বাসে ৫-৭ ঘন্টার মধ্যেই দুর্গাপুরে পৌঁছে যাবেন।

.

ঢাকা টু দুর্গাপুরের কিছু বাসের মোবাইল নম্বর:

.

🔷 সরকার পরিবহন

     মোবাইল নম্বর: 01917710008 (এরশাদ)

.

🔷 জিন্নাত পরিবহন

     মোবাইল নম্বর: 01711669774 (শিকদার)

.

🔷 মা মনি এন্টারপ্রাইজে

     মোবাইল নম্বর: 01325885823, 01963103574

.

🔷 নিরব-২ পরিবহন

     মোবাইল নম্বর: 01793609655

     বাস ছাড়ার সময়:

     দুর্গাপুর থেকে সকাল ৯ টা

     ঢাকা থেকে বিকাল ৪ টা

.

🔷 নিশিতা পরিবহন

     মোবাইল নম্বর: 01866102126

.

🔷 হাজেরা পরিবহন

     মোবাইল নম্বর: 01322271507, 01322271506

     বাস ছাড়ার সময়: ভোর পাঁচটায়

.

🔷 মামুনি পরিবহন

     বাস ছাড়ার সময়: প্রথম বাস সকাল ৭.৩০ টায় ছাড়ে

.

🔷 আল্লাহর রহমত পরিবহন

.

অনুরূপভারে ঢাকায় ফেরার সময় দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র তালুকদার প্লাজার সামনে থেকে রাত ১১ টায় এবং ১১.৩০ টায় দুটি নাইট কোচ বাস ঢাকা মহাখালীর উদ্যেশে যাত্রা করে। এই বাসে ভোর ৫ টার মধ্যেই আপনি ঢাকায় পৌঁছে যাবেন। এই বাসগুলোতে যাতায়াত করতে আগে থেকে আসা যাওয়ার বুকিং দিয়ে রাখলে ভালো হয়।

.

(২) নেত্রকোনা গামী বাসে চড়ে ঢাকা টু দুর্গাপুর:

.

১নং পদ্ধতির রাস্তা ভালো না হওয়ায় এবং বাসগুলো তুলনামূলক নিম্নমানের হওয়ায় অনেকে এই বিকল্প রাস্তাটি ব্যবহার করেন। প্রতিদিন মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকা টু নেত্রকোণা রুটে রাতে এবং দিনে অনেকগুলো ভালো মানের বাস চলাচল করে। এই বাসগুলো আপনাকে ৫-৫.৩০ ঘন্টার মধ্যে নেত্রকোনায় পৌঁছে দিবে। ঢাকা টু নেত্রকোণা রুটের বাসগুলো ভাড়া নেয় ৩০০-৪০০ টাকা।

.

ঢাকা টু নেত্রকোনা রুটের কিছু ভালো মানের বাসের মোবাইল নম্বর:

.

🔷 হযরত শাহজালাল (র:) এক্সপ্রেস

     মহাখালী কাউন্টার 01717058151

     নেত্রকোনা কাউন্টার – 01717058152

.

🔷 ইকরাম পরিবহণ

      মহাখালী কাউন্টার – 01811115032

      নেত্রকোনা কাউন্টার – 01793072835

.

🔷 বিআরটিসি পরিবহণ

     গুলিস্তান কাউন্টার – 01301206048, 01914982101

     নেত্রকোনা কাউন্টার – 01917228939, 01302650124

.

ঢাকা টু নেত্রকোনা এবং নেত্রকোনা টু ঢাকা সকল বাসের কাউন্টার, মোবাইল নম্বর, ভাড়া এবং যাতায়াতের সময়সূচি দেখুন এখানে

এই বাসগুলো নেত্রকোণা শহর পর্যন্ত গেলেও আপনি কিন্তু যাবেন না। শহরে যাওয়ার আগেই চল্লিশা নামে একটা বাজার পড়বে, সেখানে নেমে যাবেন। বাজারে নেমে হালকা নাস্তা করে বাইকে কিংবা অটোতে করে চল্লিশা বাজার-শিমুলকান্দি-দুর্গাপুর রুট ধরে পৌঁছে যাবেন দুর্গাপুরে। চল্লিশা থেকে বাইকে দুর্গাপুর যেতে সময় লাগবে ১ ঘন্টার মতো। এই রাস্তাটা সুন্দর হওয়ায় আপনার ভ্রমণটা তুলনামূলক কম কষ্টসাধ্য এবং আরামদায়ক হবে।

.

(৩) জারিয়া ঝাঞ্জাইল গামী ট্রেনে চড়ে ঢাকা টু দুর্গাপুর:

.

প্রতিদিন ঢাকা থেকে নেত্রকোনার জারিয়া ঝাঞ্জাইলের উদ্দ্যেশে ‘বলাকা কমিউটার’ নামক একটি ট্রেন চলাচল করে। বলাকা কমিউটার ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছাড়ে ভোর ৪.৪৫ টায় এবং জারিয়া ঝাঞ্জাইলে পৌঁছায় সকাল ১০.১৫ টায়। কেউ ট্রেনে ভ্রমণ করতে চাইলে, এই বলাকা কমিউটারে জারিয়া ঝাঞ্জাইল পর্যন্ত চলে যাবেন। তারপর সেখানে হালকা নাস্তা করে বাইক, অটো, ট্রলার কিংবা সিএনজিতে করে সহজেই দুর্গাপুর চলে যেতে পারবেন। বাইকে যেতে সময় লাগবে ২০-২৫ মিনিট।

.

(৪) মোহনগঞ্জ গামী ট্রেনে চড়ে ঢাকা টু দুর্গাপুর:

.

প্রতিদিন ঢাকা থেকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের উদ্দ্যেশে দিনে এবং রাতে ৩টি ট্রেন চলাচল করে।

.

🔷 হাওর এক্সপ্রেস

     ঢাকা থেকে ছাড়ে – রাত ১০.১৫ টায়

     শ্যামগঞ্জ পৌঁছায় – রাত ১.৫২ টায়

.

🔷 মহুয়া কমিউটার

      ঢাকা থেকে ছাড়ে – সকাল ৮.৩০ টায়

      শ্যামগঞ্জ পৌঁছায় – দুপুর ১.৩৬ টায়

.

🔷 মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস

       ঢাকা থেকে ছাড়ে – দুপুর ১.১৫ টায়

       শ্যামগঞ্জ পৌঁছায় – বিকাল ৪.৩৮ টায়

.

মোহনগঞ্জ টু ঢাকা এবং ঢাকা টু মোহনগঞ্জ সকল ট্রেনের যাওয়া আসার সময়সূচি দেখুন এখানে

কেউ এই ট্রেনগুলোতে করে দুর্গাপুর যেতে চাইলে, ট্রেন তার গন্তব্যে পৌঁছার আগেই আপনারা নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ স্টেশনে নেমে যাবেন। সেখানে হালকা নাস্তা করে বাইক, অটো, বাস কিংবা সিএনজিতে করে সহজেই দুর্গাপুর চলে যেতে পারবেন। বাইকে যেতে সময় লাগবে ৪৫-৫০ মিনিট।

উপরে উল্লেখিত এই চারটি পদ্ধতির, যেকোন একটি পদ্ধতিতে আপনি ঢাকা থেকে দূর্গাপুরে আসবেন। আগের দিন দুর্গাপুরে এসে রাতে হোটেলে অবস্থান করে পরেরদিন খুব সকালে বিরিশিরির উদ্দেশ্যে বের হলে বিকাল নাগাদ পুরো জায়গাটাই সুন্দরভাবে ঘুরে দেখা সম্ভব। আর আপনি যদি হোটেলে রাত্রিযাপন না করেন অর্থাৎ আপনি যদি সারারাত জার্নি করে এসে সকালে স্পটগুলো দেখা শুরু করতে চান, তাহলে সকালে দুর্গাপুর নেমে আবার দুর্গাপুর টু বিরিশিরির উদ্দেশ্যে বের হয়ে যাবেন।

.

⏩ দুর্গাপুর টু বিরিশিরি:

.

খুব সকাল সকালই দুর্গাপুর থেকে ভ্রমন স্পটগুলো দেখার উদ্দ্যেশে বেরিয়ে পড়তে হবে। দুর্গাপুর বাজার থেকে রিকশা কিংবা বাইক ভাড়া নিয়ে সুনীল সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে গারো পাহাড়, সাদা মাটির পাহাড়, নীলচে-সবুজ পানির হ্রদসহ সবগুলো পর্যটন স্পট বিকালের মধ্যেই ঘুরে শেষ করা যাবে। রিকশা কিংবা বাইকের ড্রাইভারই আপনার ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করবে।

বিরিশিরির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটা যদি আপনার মতো করে ভালোভাবে উপভোগ করতে চান কিংবা আপনার সাথে যদি আপনার স্ত্রী / প্রেমিকা থাকে, তবে অবশ্যই রিকশা ভাড়া করবেন। দুর্গাপুর বাজার থেকে ব্যাটারী চালিত রিকশা ৪০০-৮০০ টাকায় সারাদিনের জন্য ভাড়া নিয়ে সবগুলো দর্শনীয় স্থান আপনি ৫-৮ ঘন্টায় দেখে ফেলতে পারবেন। ভাড়ার ব্যাপারটা হচ্ছে আসলে, যার কাছ থেকে যত রাখতে পারে। বাজারের স্ট্যান্ড থেকে রিকশা ভাড়া করলে অনেক বেশি টাকা চায়, তাই রাস্তা থেকে ভাড়া করলে আরো কমে করতে পারবেন। অবশ্য রিকশা আপনাকে খুঁজতে হবে না। রিকশাই আপনার হোটেলে এসে সকাল সকাল বসে থাকবে। সঠিক দাম দর করে এবং পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে সকালের নাস্তা সেরেই বের হয়ে পড়বেন। এখানে জুয়েল নামের একজন রিকশাওয়ালা আছেন, তার মোবাইল নম্বর – 01828594461

তবে কাপল না হলে বিরিশিরি ঘুরে দেখার জন্য বাইক ভাড়া করাই ভালো। বিরিশিরির রাস্তাঘাট খুব একটা ভালো না হওয়ায় বাইকে ঘুরাই তুলনামূলক সুবিধাজনক। দুর্গাপুরের তালুকদার প্লাজা / অগ্রণী ব্যাংকের সামনে থেকে মোটর সাইকেল ভাড়া করতে পারবেন। দুর্গাপুর বাজার থেকে মোটর সাইকেল ৬০০-১০০০ টাকায় ২ জন মিলে সারাদিনের জন্য ভাড়া নিয়ে সবগুলো দর্শনীয় স্থান আপনি ৬ ঘন্টায় দেখে ফেলতে পারবেন। ভালোভাবে দামাদামি করে সকাল সকালই বাইক নিয়ে বের হয়ে যাবেন। বাইক দিয়ে সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে ঐ পাড়ে যেতে হবে। নদী পার হতে জনপ্রতি ৫ টাকা এবং বাইকের জন্য ১০ টাকা দিতে হবে।

.

দুর্গাপুরে কোথায় থাকবেন :

.

দুর্গাপুরে রাত্রীযাপন করার জন্য অনেকগুলো সরকারি, বেসরকারি আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এগুলোতে স্বল্প টাকায় নিরাপদ ও আরামসে রাত কাটিয়ে শরীরের ক্লান্তি দূর করতে পারবেন।

দুর্গাপুরের কয়েকটি আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টের ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর:

.

১। জেলা পরিষদ ডাক বাংলো

     মোবাইল: 01558380383, 01725571795

.

২। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমী গেস্ট হাউজ

     ফোন: 0952556042, মোবাইল: 01815482006

.

৩। দূর্গাপুর ডাক বাংলো, দূর্গাপুর।

    ফোন: 0952556015

.

এই তিনটি সরকারি আবাসনে রাত্রীযাপন করতে গেলে ভাড়া পড়বে রুমপ্রতি ৩০০-৫০০ টাকা

.

৪। ইয়ুথ মেন খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বা ওয়াইএমসিএ -এর রেস্ট হাউজ।

   মোবাইল- 01818613496, 01716277637, 01714418039, 01743306230, 01727833332, 01924975935

.

৫। YWCA গেস্ট হাউজ

     মোবাইল – 01712042916, 01711027901

.

উপজাতীয় সংগঠন পরিচালিত এই দুইটি আবাসনে রাত্রীযাপন করতে চাইলে ভাড়া পড়বে রুমপ্রতি ৫০০-৮০০ টাকা।

.

৬। স্বর্ণা গেস্ট হাউজ

     দুর্গাপুর বাসস্ট্যান্ডের সাথে

     মোবাইল: 01712228698, 01728438712, 01748964322

.

৭। হোটেল নিরালা

     বিরিশিরি বাসস্ট্যান্ড থেকে ২ কি.মি. উত্তরে

     মোবাইল: 01712786798

.

৮। হোটেল সুসং

     মোবাইল: 01914791254

.

৯। আমাদের বাড়ি রিসোর্ট

    বিজয়পুর সাদা মাটির পাহাড়ের কাছে

    মোবাইল: 01711071171, 01818664748

.

১০। হোটেল গুলশান

       মোবাইল: 01711150807

.

১১। বিচিত্রা গেস্ট হাউজ

       দুর্গাপুর বাসস্ট্যান্ডের সাথে

       মোবাইল: 01793695945

.

১২। হোটেল জবা

       মোবাইল: 01711186708, 01753154617

.

১৩। সুমেশ্বরী লাক্সারী হোটেল

       থানা রোড, মুক্তারপাড়া, দুর্গাপুর

       মোবাইল: 01719437888

.

১৪। নদী বাংলা গেস্ট হাউজ

       মোবাইল: 01771893570, 01713540542

.

১৪। হোটেল পুষ্প

       মোবাইল: 01818646793

.

১৫। হোটেল মদিনা

       মোবাইল: 01924181455

.

ব্যক্তি মালিকানাধীন এই বেসরকারি আবাসিক হোটেলগুলোর ভাড়া অনেক কম। রাত্রীযাপন করতে চাইলে ভাড়া পড়বে রুম প্রতি ১৫০-৪০০ টাকা।

সরকারি বেসরকারি হোটেল কিংবা রিসোর্টে ঢাকা থেকেই ফোন করে বুকিং দিতে পারেন কিংবা এখানে এসেও দামাদামি  করে সরাসরি রুম নিতে পারেন।

.

বিরিশিরিতে কোথায় খাবেন, কী খাবেন:

দুর্গাপুরে মাঝারি মানের অনেকগুলো খাবারের হোটেল বা রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যেগুলোতে ভাত, মাংস, মাছ, ডালের পাশাপাশি বকের মাংসও পাওয়া যায়। হোটেল নিরালা, নিরিবিলি রেস্তোরা এবং হোটেল দুলালের মতো অনেকগুলো খাবারের হোটেল রয়েছে দুর্গাপুরে। তবে সবগুলোর মধ্যে এখানে খাবারের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় হোটেল নিরালা। এটি বিরিশিরি বাসস্ট্যান্ড থেকে ২ কি.মি. উত্তরে অবস্থিত। এখানে সকাল, দুপুর এবং রাতের সব টাটকা এবং সুস্বাদু খাবার পাবেন। তাছাড়া তালুকদার প্লাজা / অগ্রণী ব্যাংকের সামনে অবস্থিত হোটেল পুষ্প এবং হোটেল শান্ততে সুলভ মূল্যে ভালো মানের খাবার পাওয়া যায়। স্বর্ণা গেস্ট হাউজের পাশেই রয়েছে সুস্বাদু খাবারের আরেক জায়গা লাকী হোটেল। আবার আপনি যে গেস্ট হাউজ / আবাসিক হোটেলে রাত্রীযাপন করবেন তাদেরকে বললেও, তারা সুলভ মূল্যে উন্নত খাবারের ব্যবস্থা করে দিবে।

বিরিশিরি ভ্রমণে আসলে আপনি এখানকার জনপ্রিয় দুধের সরের চা (গারো পাহাড়ে যেতে এই দোকান সামনে পড়বে) এবং বিখ্যাত দেউরি মাছ না খেয়ে যাবেন না। দেউরি মাছ অনেক সুস্বাদু এবং অসাধারণ মজার এক মাছ। এখানের অনেক দোকানে নেত্রকোনার বিখ্যাত বালিশ মিষ্টি পাওয়া যায়। তবে আদি ও আসল বালিশ মিষ্টি খেতে চাইলে যেতে হবে নেত্রকোনা জেলা শহরের গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে।

বিরিশিরিতে বাইক বা অটোতে করে সারাদিনব্যাপী দর্শনীয় স্থানগুলো ঘোরার সময় হালকা খাবার সাথে রাখতে পারেন। কারণ এখানে যত্রতত্র খাবারের হোটেল বা রেস্তোরা পাওয়া যায় না। তবে ঘোরাফেরার সময় বেশি ক্ষুধা লাগলে হাজং মাতা রাশমণি স্মৃতিসৌধের পাশে যাত্রাবিরতি করতে পারেন। রাশমণির মোড়ে বেশ কয়েকটি খাবারের হোটেল রয়েছে। ১০০-১৫০ টাকা খরচ করে এখানে দুপুরের খাবার খেতে পারবেন

.

বিরিশিরিতে ট্যুরে গিয়ে যেসব দর্শনীয় স্থান দেখবেন, তার বিস্তারিত বিবরণ:

.

⏩ বিজয়পুরের চীনা মাটির / সাদা মাটির পাহাড়

 বিরিশিরির প্রধান আকর্ষণ বিজয়পুরের চীনা মাটির পাহাড়, যার বুক চিরে বয়ে গেছে নীলচে-সবুজ স্বচ্ছ পানির হ্রদ। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই স্থানটি বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলোর একটি। দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ হতে ৭ কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে চীনা মাটির পাহাড় অবস্থিত। সাদা মাটির পাহাড়ের সমভূমি দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৬ কি.মি. এবং প্রস্থে ৬০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। নীল সবুজ পানির লেক আর সবুজ ছোট ছোট আগাছা দিয়ে চীনা মাটির পাহাড় ঘেরা।

বিস্তর পাহাড় জুড়ে ছড়িয়ে আছে সাদা সাটি। পাহাড়াটির নাম সাদা মাটির পাহাড় হলেও এর সব অংশের মাটি কিন্তু সাদা নয়। পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে মাটির রং ভিন্ন ভিন্ন। কোথাও লাল, কোথাও সাদা, কোথাও গোলাপী, কোথাও নীলাভ, কোথাও হলুদ, কোথাও বেগুনী, আবার কোথাও খয়েরী। এ যেন নানা রঙের খেলা। নানা রংয়ের মাটি, পানি ও প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য মনকে করে বিমোহিত, চোখকে দেয় প্রশান্তি। এই পাহাড় থেকে চীনা মাটি সংগ্রহ করা হয়। এর ফলে পাহাড়ের গায়ে তৈরি হয়েছে ছোট ছোট গভীর জলাধার। এখানকার পাহাড়ের গায়ে স্বচ্ছ নীল রঙের জলাধারগুলো দেখতে অত্যন্ত চমৎকার।

.

⏩ নীল-সবুজ জলের লেক

চীনা মাটির পাহাড় এবং নীল-সবুজ স্বচ্ছ জলের হ্রদ মূলত একই জায়গায় পাশাপাশি অবস্থিত। সাদা মাটির পাহাড়ের একদম নিচেই রয়েছে সবুজ এবং নীল পানির হ্রদ। আকাশের রং এবং পাহাড়ের ছায়ার উপর ভিত্তি করে লেকের পানির রং পরিবর্তিত হয়। লেকের নীল জলের উৎস সোমেশ্বরী নদী। এই হ্রদের পানি আসলে টলটলে আকাশিরঙা। এই লেকের পানিতে মাছ বা অন্য কোন জৈব প্রাণী নেই। এর দেয়াল ঘেঁষে উঠে গেছে চীনামাটির পাহাড়। এই পাহাড়টি হ্রদের পানিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। মূলত এইখানে লেক হচ্ছে দুইটি। একটি অনেক বড়, অন্যটি ছোট। বড় লেকটিতে অনেক পর্যটকই সাতার কাটে, লম্ফঝম্ফ মেরে গোসল করে। ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত শরীরে পাহাড়ের পাদদেশের নীল-সবুজ পানিতে গা ভিজাতে কার না ভালো লাগে?

নীলকে সবুজ এই লেকের জল যেন আপনার সকল ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করে দিবে। বিশাল উঁচু পাহাড়ের পাদদেশে নীল-সবুজ পানির হ্রদ আর তার পাশে জেগে ওঠা চীনা মাটির পাহাড় এবং আশেপাশে থাকা পাহাড়ের ঢালে মনমাতানো সবুজসমৃদ্ধ গ্রামীণ অপরূপ দৃশ্য, যা অতি সহজে মানব হৃদয়ে আনন্দের ঢেউ তোলে।

.

⏩ গারো পাহাড়

গারো পাহাড় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো-খাসিয়া পর্বতমালার একটি অংশ। এই পাহাড়ের কিছু অংশ পড়েছে দুর্গাপুরে। দুর্গাপুরের উত্তর সীমান্তে নলুয়াপাড়া, বাড়মারি, ফারংপাড়া, ডাহাপাড়া, বিজয়পুর, ভবানিপুর এবং রাণিখংসহ বিস্তীর্ণ প্রায় ৮ হাজার বর্গ কি.মি. এলাকা জুড়ে এর বিস্তৃতি। এই পাহাড়গুলো অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এই গারো পাহাড়কে সাজাতে প্রকৃতি তার সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। বিচিত্র স্বাদের প্রকৃতির অলংকার যেন মানায় এই স্বর্গকেই। ছোট-বড় নদী, পাহাড়-পর্বত, গজারী-শালসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, পাহাড়ী ঝর্ণা, নান্দনিক উঁচু-নিচু পথ দিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখার মজাই আলাদা। সবুজে সবুজে আচ্ছাদিত এই গারো পাহাড় যেন প্রাণ জুড়িয়ে দেয়।

.

⏩ সোমেশ্বরী নদী

সাদা-শুভ্র চীনা মাটির পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে বয়ে গেছে অপরূপ নীলের উৎস সোমেশ্বরী নদী। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড়ের বাঙাছড়া, বিঞ্চুরীছড়া প্রভৃতি ঝর্ণাধারা এবং পশ্চিম দিকের রমফা নদীর স্রোতধারা মিলিত হয়ে সোমেশ্বরী নদীর উৎপত্তি। ধু ধু বালুচর আর স্বচ্ছ পানির জন্য বিখ্যাত এই সোমেশ্বরী নদী। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ী ঝর্ণা থেকে নেমে আসা পানি প্রবাহিত হয় সোমেশ্বরী নদীতে। পাহাড়ের গাঁ ঘেঁষে নিরন্তর ছুটে চলা সোমেশ্বরী নদীর প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে স্বচ্ছ পানি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি কয়লা, সিলিকা বালি এবং নুড়ি পাথর বয়ে আনে সোমেশ্বরী নদী। বর্তমানে কয়লা খনি হিসেবে পরিচিত সোমেশ্বরী নদী তার স্বচ্ছ জলের মতোই আপন রূপে অনন্যা।

সোমেশ্বরী নদীর নীল জলে সাদা চীনামাটির পাহাড়ের প্রতিবিম্ব যেন এক নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের প্রতীক। নদীর কূলে কাশবন আর দূরের গারো পাহাড়ের স্নিগ্ধতা মুগ্ধ করবে যে কোন ভ্রমণপিপাসুকে। বর্ষাকালে সোমেশ্বরী নদী তার ভয়ংকর সুন্দর রূপ মেলে ধরে। নদীর একপাশে খরস্রোতা বয়ে চলার দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। তাই নদী ভ্রমণের নেশা থাকলে বর্ষাকালে যেতে পারেন সোমেশ্বরীতে। বর্ষাকালে সোমেশ্বরী নদীর পানির গভীরতা বাড়লেও শীতকালে পানির পরিমাণ অনেক কমে যায়। শীত আসার সাথে সাথে ভিন্ন এক রূপ ধারণ করে সোমেশ্বরী। তখন যেদিকে চোখ যায়, মনে হয় দিগন্ত বিস্তৃত বালুচর। এ মৌসুমে সোমেশ্বরী যৌবন হারিয়ে প্রায় মরা নদীতে পরিণত হয়। শীতের মৌসুমে যখন পানি অনেকটাই কমে যায়, তখন সোমেশ্বরী নদীতে হাঁটুপানিতে নেমে হাটাহাটি করার অনুভূতিটা দুর্দান্ত হবে।

.

⏩ সাধু যোসেফের ধর্মপল্লী

দুর্গাপুর থেকে সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে রিকশা বা বাইকে রানীখং গ্রামে পৌঁছার সাথে সাথে একটি ক্যাথলিক গির্জা দেখতে পাবেন। এটিই সাধু যোসেফের ধর্মপল্লী। এটি ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে প্রতিদিন বিকাল ৪ টা পর্যন্ত। সাধু যোসেফের ধর্মপল্লী বেশ সাজানো-গোছানো, শান্ত এবং চমৎকার। এর অনিন্দ্য সুন্দর এবং মনোরম পরিবেশ আপনাকে বিমুগ্ধ করবে নিশ্চিত। সাধু যোসেফের ধর্মপল্লীতে দর্শনার্থীদের জন্য একটি বিশ্রামাগারও রয়েছে।

.

⏩ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমী

দুর্গাপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছেই অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমী। মূলত উপজাতীয় নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, বিকাশ, লালন ও আদিবাসী সংস্কৃতি চর্চা করার উদ্যেশে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এখানের কর্মকতা-কর্মচারীদের অধিকাংশই পাহাড়ী-গারো-হাজং। সবুজে ঢাকা ছিমছাম পরিবেশে অবস্থিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমীতে পর্যটকদের খুব একটা চাপ থাকে না, তাই এটি সবসময় থাকে শান্ত-স্নিগ্ধ।

নানা প্রজাতির গাছপালার সমন্বয়ে সাজানো এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমীতে রয়েছে সংস্কৃতি, জাদুঘর, গবেষণা, লাইব্রেরী প্রভৃতি ৪ টি শাখা। দোতলার উপজাতীয় মিউজিয়ামে এ অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জীবনযাত্রার নানা নিদর্শন ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র সংরক্ষিত আছে। তাছাড়া এই একাডেমীর ক্যাম্পাসে আছে দ্বিতল ভবনের একটি অডিটোরিয়াম এবং গেস্ট হাউজ। এখানে প্রায় সারা বছরই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এসব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর লোক আসে কালচারাল একাডেমীতে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমীতে প্রবেশ ফি ২ টাকা এবং জাদুঘরে প্রবেশ ফি মাত্র ১০ টাকা। এই জাদুঘর রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার – সপ্তাহে ৫ দিন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

.

⏩ সুসং দুর্গাপুরের জমিদার বাড়ি

এক সময় প্রাচীন সুসং রাজ্যের রাজধানী ছিলো দুর্গাপুর। বর্তমানে এটি নেত্রকোনা জেলার একটি উপজেলা। সোমেশ্বর পাঠক এবং তার পরবর্তী বংশধররা এই রাজ্য প্রায় ৬৬৭ বছর ধরে শাসন করেন। কিন্ত রাজকৃষ্ণ নামে এক রাজার আমলে সুসং রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজপরিবারে বিরোধ তৈরি হয়। ফলে একসময় পুরো সুসং রাজ্য চার ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এবং চারটি আলাদা রাজবাড়ি জেরি হয়। বাড়িগুলো হলো: ১. বড় বাড়ি, ২. মধ্যম বাড়ি, ৩. আবু বাড়ি, ৪. দু’আনি বাড়ি।

.

⏩ হাজং মাতা রাশমণি স্মৃতিসৌধ

দুর্গাপুর থেকে বিজয়পুর চীনা মাটির পাহাড়ে যাওয়ার রাস্তায় কামারখালী বাজারের পাশেই বহেরাতলীতে অবস্থিত হাজং মাতা রাশমণি স্মৃতিসৌধ। ঐতিহাসিকদের তথ্যমতে, ব্রিটিশ মহাজন ও জোতদারদের অন্যায় নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে শহীদ হয়েছিলেন রাশমণি। এবং এর ফলে টংক আন্দোলন আর তার নাম – একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ওঠে। হাজং মাতা রাশমণি স্মৃতিসৌধের সৌন্দর্য যেন বছর বছর ধরে অক্ষত রয়ে গিয়েছে।

.

⏩ টংক আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ

সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে কিছুদূর আগালেই এম.কে.সি.এম হাই স্কুলের পাশে দেখা মিলবে এই স্মৃতিসৌধটি। ১৯৪৬-৫০ সালে তৎকালীন সুসং জমিদার বাড়ির ভাগ্নে কমরেড মণি সিংহের নেতৃত্বে জমিদারদেরই বিরুদ্ধে শুরু হয় টংক বা তেভাগা আন্দোলন। এই টংক আন্দোলনের শহীদদের স্মরণেই নির্মিত হয় স্মৃতিসৌধটি। প্রত্যেক বছর ৩১ ডিসেম্বর কমরেড

মণি সিংহের মৃত্যুবার্ষিকীতে এখানে পাঁচ দিনব্যাপী লোকজ মেলা বসে, যেটি ‘মণিসিংহ মেলা’ নামে পরিচিত।

.

⏩ রানীখং মিশন

দুর্গাপুর বাজার থেকে ৬ কি.মি. উত্তর সীমান্তে পাহাড়ের একদম চূড়ায় অবস্থিত রাণীখং মিশন আসলে একটি ক্যাথলিক গির্জা। এই রানীখং মিশনটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১০ সালে। গির্জার ভেতরটা অনেক বেশি নান্দনিক। এই গির্জায় অবস্থিত যিশু খ্রিস্টের মূর্তিটি সবারই নজর কাড়বে।

এই মিশনে ঘুরতে গিয়ে আপনি প্রকৃতিকে আরও নিবিড়ভাবে উপভোগ করতে পারবেন। এ মিশনটি তৈরি করা হয়েছে সোমেশ্বরী নদীর একদম কূল ঘেঁষে ঘন গাছপালা পরিবেষ্টিত টিলার উপরে। এই পাহাড়ের চূড়া থেকে বিরিশিরির রূপ সৌন্দর্য যেন অন্যরকম হয়ে চোখে ধরা পড়ে। বহুদূর বিস্তৃত সোমেশ্বরী নদীও এই টিলা থেকে হয়ে উঠে নয়নাভিরাম। মিশনের উপর থেকে ভারতের পাহাড়গুলোকে অনিন্দ্য সুন্দর ভাবে চোখে পড়ে। এখানে দাঁড়িয়ে আপনি ভারতের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া দেখতে পারেন। তাছাড়াও মেঘালয় রাজ্য স্পষ্ট দেখা যায় এই পাহাড়ের চূড়া থেকে।

.

⏩ কমলা রাণীর দীঘি

বিরিশিরি ইউনিয়ন পরিষদের একদম পাশেই প্রাচীন কিংবদন্তি ও নানা জনশ্রুতির কমলা রাণীর দীঘি অবস্থিত, যেটি সাগর দীঘি নামেও পরিচিত। দীঘিটির অধিকাংশ জায়গাই নদীতে বিলীন হয়ে গেলেও এর দক্ষিণ-পশ্চিম পাড় এখনো কালের সাক্ষী হয়ে জেগে আছে।

.

⏩ বিজয়পুর বর্ডার এবং নৌভ্রমণ

বিজয়পুর বর্ডারে রয়েছে বিজিবির একটি সুন্দর ক্যাম্প। বিজিবি ক্যাম্পের ডান দিকে আগালেই সামনে পড়ে নদী। এখান থেকে নদীতে ঘুরাফেরা করার জন্য ঘন্টা হিসেবে ছোট ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকা পাওয়া যায়। যেটি দিয়ে ঘুরতে পারবেন সোমেশ্বরী নদীর স্বচ্ছ জলে। চাইলে নৌকা দিয়ে নদীর অন্য পাশে ভারত সীমান্ত পর্যন্তও যেতে পারবেন। কাঁচের মতো স্বচ্ছ জলরাশি আর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের উঁচু-নিচু পাহাড়, সব মিলে এক নয়নাভিরাম স্বর্গীয় অনুভূতি, যা অল্প কথায় তুলে ধরা সম্ভব নয়। এছাড়া এখানে অনেকে মন-প্রাণ ভিজিয়ে গোসল করে, কেউবা ট্রলার দিয়ে জিরো পয়েন্ট দেখতে যায়।

.

⏩ পুটিমারি মিশন

পুটিমারি মিশনও একটি ক্যাথলিক গির্জা। এই গির্জার ভেতরে যাওয়ার জন্য আগে থেকে অনুমতি নিতে হয়। এই গির্জাও অনেক বেশি সুন্দর।

.

⏩ কমলা বাগান

বিরিশিরির আরও একটি চোখ জুড়ানো অনিন্দ্য সুন্দর জায়গা হচ্ছে কমলা বাগান। নাম কমলা বাগান হলেও এখানে কমলার দেখা কিন্তু পাবেন না। কমলা বাগানে রয়েছে একটি ছোট পাহাড়ী টিলা। টিলার একদম চূড়া থেকে দেখা মিলে চারদিকের মোহনীয় সবুজের বিস্তৃতি ও সীমান্তের অন্য পাড়ের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়গুলোর চূড়া। টিলা বেয়ে উপরে ওঠার সময় সাথে অবশ্যই জুতা রাখতে হবে।

.

⏩ ওয়াচ টাওয়ার

বিজয়পুর বর্ডারের দিকে একটু আগালেই চোখে পড়বে উচু পাহাড়। এই পাহাড়ে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। অবশ্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে বিজিবি কিছুদিন আগে এটা বন্ধ করে দিয়েছে।

.

⏩ কংস নদী

কংস নদী ভারতের মেঘালয় এবং বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ভারতের শিলং মালভূমির পূর্বভাগের তুরার পাশে গারো পাহাড়ে কংস নদী উৎপন্ন হয়। কংস এবং সোমেশ্বরী নদীর মিলিত স্রোত বাউলাই নদী হিসেবে পরিচিত। বিরিশিরি যেতে বাস থেকে নামার পর প্রথমে এ নদীটি পার হতে হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৫ মিনিট।

.

⏩ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আবাসস্থল

বিরিশিরিসহ পুরো দুর্গাপুর জুড়ে গারো, হাজং, ডালু, কোচ, বানাইসহ অনেক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। এই আদিবাসীদের জীবনধারা যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি বৈচিত্র্যময় এদের অনন্য সংস্কৃতি। পাহাড়ী রাস্তায় বের হলেই চোখে পড়বে আদিবাসীদের যাতায়াত। বিশেষ করে নারী আর শিশুই বেশি দেখা যায় পাহাড়ী রাস্তায়। পিঠে ঝুড়ি নিয়ে তারা যায় সীমান্তের বাজারে।

.

⏩ বিজয়পুর জিরো পয়েন্ট

বিজয়পুর বিজিবি ক্যাম্প হতে বিজয়পুর জিরো পয়েন্ট ২-৩ কি.মি. পথ হলেও এই রাস্তা পাড়ি দেওয়ার জন্য অটো ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। মোটর সাইকেল নিয়ে কিংবা পায়ে হেঁটে জিরো পয়েন্টে যেতে দিবে না বিজিবির সদস্যরা। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আপনি যে রাস্তা দিয়ে জিরো পয়েন্টে যাবেন, সেই রাস্তার দুই পাশেই ভারত। আরও কিছুদূর আগালে তিন দিক থেকেই ভারত বেষ্টিত হয়ে পড়বেন আপনি।

.

⏩ আত্রাখালি নদী

আত্রাখালি নদী এখন বেশ খরস্রোতা। বিরিশিরি থেকে কিছুদূর এগিয়েই নদীটি সোমেশ্বরীর মূলধারার সাথে মিলিত হয়েছে। এই নদী দুর্গাপুর বাজারের উত্তর দিক দিয়ে সোমেশ্বরী নদী হতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়েছে।

.

⏩ রাণীখং উচ্চ বিদ্যালয়

সাধু যোসেফের ধর্মপল্লীর একদম কাছেই অবস্থিত রানীখং উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনটি অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর এবং নয়নাভিরাম। টিলাময় প্রাঙ্গনটি বিরিশিরির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আরেকটি অনন্য প্রতীক।

.

নিচে ঘাস, উপরে মেঘ। এর মধ্যেই দেখা মিলবে সোমেশ্বরী নদীর স্বচ্ছ পানি, গির্জা, পাহাড়ী নৃ-গোষ্ঠী, রাস্তার চারদিকে হলদে-সবুজ পাকা ধানক্ষেতের পটভূমিতে মেঘালয়ের পাহাড়। সেন্ট মার্টিনের গভীর নীল জল অথবা জাফলংয়ের স্বচ্ছ পানির কথা জানলেও নেত্রকোনার বিরিশিরির সবুজ নীলের মিশেলে অদ্ভুত রঙা হ্রদটার কথা হয়তো আপনার অজানা। বিরিশিরি থেকে পা বাড়ালেই ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্য। রাস্তায় চলতে গিয়ে দু চোখে যে পাহাড়গুলো দেখবেন, তার কিছু ভারতেও অবস্থিত।

বিচিত্রময় সাংস্কৃতিক আবহাওয়া, গাছপালা, কংস-টেপা সোমেশ্বরীর কাশবন, হ্রদ বা জলাশয়, পাখিদের কিচিরমিচির, স্নিগ্ধ হাওয়া আর দূর আকাশে হেলান দিয়ে গম্ভীর গারো পাহাড়ের ধ্যানমগ্ন প্রতিকৃতি সেই ব্রিটিশ যুগ থেকেই ভ্রমণপিপাসুদের মন জয় করে আসছে। ছোট ছোট পাহাড়ের টিলার চূড়ায় বসে চতুর্দিকের সবুজ মনোরম পরিবেশটাকে চোখের পলকে রূপকথার কিংবদন্তীর মতো করে উপভোগ করার মতো এমন এক স্নিগ্ধ অনুভূতির স্বাদ নেওয়া একমাত্র বিরিশিরিতেই সম্ভব।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এক অনন্য দর্শনীয় কোলাহলমুক্ত  পর্যটন স্পট বিরিশিরি। বিরিশিরিতে কদম ফেলতেই অদ্ভুত এক অনুভূতির পরশ লাগে সারা শরীরে। বিরিশিরির প্রকৃতি তার অপার সৌন্দর্য নিয়ে অপেক্ষা করছে আপনাকে মুগ্ধ করার জন্য। ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের জন্য যতসব উপাদান থাকা দরকার, এর সবই আছে বিরিশিরিতে। বিরিশিরির স্নিগ্ধতা কিছু সময়ের জন্য হলেও আপনাকে ভুলিয়ে দিবে সকল দুঃখ, বেদনা আর ব্যস্ততা। নানা নিয়মের বেড়াজালে যাদের জীবন আটকে আছে, দম ফেলবার সময় নেই, যাদের কি না লং ট্রিপে যাওয়া অসম্ভব, অল্প খরচে ট্যুর দিতে চান, তাদের জন্য দুর্গাপুরের বিরিশিরি হতে পারে এক আদর্শ ভ্রমণ গন্তব্য।

.

এত এত ঐতিহাসিক স্থান আর নৈস্বর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকার পরেও পর্যটন শিল্পে অনেকটাই পিছিয়ে আছে বিরিশিরি এবং সুসং দুর্গাপুর। বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে এখানে পর্যটন শিল্প বিকশিত হচ্ছে না, দেশব্যাপী আলোড়ন তুলতে পারছে না। যদিও বিরিশিরি তেমন একটা উন্নত পর্যটন স্পট না, তবুও আপনি এখানে এসে প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারবেন। বিরিশিরির নিরিবিলি কোলাহলইীন ছিমছাম স্নিগ্ধ পরিবেশ আপনার মনে প্রশান্তি এনে দিবে। এমন সুন্দর পরিবেশে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতেও আপনার খারাপ লাগবে না। তাহলে আর দেরি কেন? আপনার শরীর-মন রিফ্রেশ করার জন্য ২-১ দিন সময় বের করে চলে আসুন অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি নেত্রকোনার বিরিশিরিতে, প্রকৃতির সৌন্দর্য দর্শনে।

.

.

নেত্রকোনার বিরিশিরি ভ্রমণ গাইড, ট্যুর প্ল্যান, যাতায়াত, হোটেল, খাবার, দর্শনীয় স্থান, খরচ সংগ্রহের কাজটি আমরা করছি খুব দ্রুতগতিতে।  উপরোল্লিখিত তালিকায় কোন তথ্যের ঘাটতি থাকলে, সেগুলোর বিস্তারিতও আমরা কিছুদিনের মধ্যেই সংযোজন করবো ইনশাল্লাহ। আপনার জানা নেত্রকোনার বিরিশিরি ভ্রমণ গাইড, ট্যুর প্ল্যান, যাতায়াত, হোটেল, খাবার, দর্শনীয় স্থান, খরচ সম্পর্কীয় কোন তথ্য এই লিস্টে না থাকলে, আপনি তা পোস্টের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন আমাদের। আমরা যথাসম্ভব তা প্রকাশ করতে চেষ্টা করবো।

উপরোল্লিখিত সকল বাস, ট্রেন, অটো, বাইক, আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরা কোনোকিছুর সাথেই ‘নেত্র আলাপ’ সংশ্লিষ্ট নয়। ‘নেত্র আলাপ’ শুধুমাত্র পাঠকদের সুবিধার্থে এসব তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করে থাকে। আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কোনোকিছুর দায় ‘নেত্র আলাপ’ গ্রহণ  করবে না।

বিরিশিরি ট্যুর, বিরিশিরি ভ্রমণ, নেত্রকোনার বিরিশিরি, দুর্গাপুর, দূর্গাপুর, সুসং দুর্গাপুর, নেত্রকোণা, নেত্রকোনা, বিরিশিরি ভ্রমণ গাইড, বিরিশিরি ট্যুর প্ল্যান, বিরিশিরি যাতায়াত, বিরিশিরি যাওয়ার উপায়, বিরিশিরি যাবার উপায়, বিরিশিরি বাস, বিরিশিরি ট্রেন, বিরিশিরি কীভাবে যাবো, বিরিশিরি আবাসিক হোটেল, বিরিশিরি রিসোর্ট, বিরিশিরি ট্যুর খরচ, বিরিশিরি ভ্রমণ খরচ, বিরিশিরি ট্যুর টাকা, বিরিশিরি ট্যুর গাইডলাইন, বিরিশিরি ট্যুর প্ল্যান, বিরিশিরি সৌন্দর্য, বিরিশিরি ঘোরার জায়গা, নেত্রকোনা ট্যুর, নেত্রকোণা ভ্রমণ, নেত্রকোনা দর্শনীয় স্থান, বিরিশিরি দর্শনীয় স্থান, বিরিশিরিতে কী কী দেখবেন, চীনা মাটির পাহাড়, নীল সবুজ পানির লেক, বিরিশিরি ভ্রমণের উপযুক্ত সময়, বিরিশিরি ট্যুরের উপযুক্ত মাস, বিরিশিরি বাস ভাড়া মোবাইল নম্বর, বিরিশিরি ট্রেন ভাড়া সময়, বিরিশিরি অটো বাইক মোটর সাইকেল, বিরিশিরি আবাসিক হোটেল ভাড়া, বিরিশিরি রিসোর্ট মোবাইল নম্বর, বিরিশিরি খাবার হোটেল, বিরিশিরি রেস্টুরেন্ট, বিরিশিরি রেস্তোরা, বিরিশিরি বিখ্যাত খাবার, বিরিশিরি পাহাড়, বিরিশিরি, বিরিশিরি কেন বিখ্যাত, বিরিশিরি ছবি, বিরিশিরি কোথায়, বিরিশিরি নেত্রকোনা ভ্রমণ, বিরিশিরি ভ্রমন তথ্য, ১ দিনের বিরিশিরি ট্যুর, বিরিশিরি দুর্গাপুর, কম খরচে বিরিশিরি ভ্রমন, নেত্রকোনার বিরিশিরি ভ্রমণ, বিরিশিরি দুর্গাপুর, ঢাকা থেকে বিরিশিরি ভ্রমণ, কম টাকায় বিরিশিরি ভ্রমণ, birishiri, birishiri resort, birishiri cultural academy, birishiri hotel, birishiri lake, birishiri netrokona resort, birishiri guest house, দুর্গাপুর দর্শনীয় স্থান, গারো পাহাড় নেত্রকোনার বিরিশিরি ট্যুর ভ্রমণ নেত্রকোনার বিরিশিরি ট্যুর ভ্রমণ নেত্রকোনার বিরিশিরি ট্যুর ভ্রমণ নেত্রকোনার বিরিশিরি ট্যুর ভ্রমণ

.

This Bangla article is about travel guide, tour plan, transportation, hotel, food, sightseeing, cost information of ‘Birishiri’ tourist spot located in Durgapur upazila of Netrakona district of Bangladesh.

Please Share This Post in Your Social Media

6 thoughts on "নেত্রকোনার বিরিশিরি ভ্রমণ গাইড, ট্যুর প্ল্যান, যাতায়াত, হোটেল, দর্শনীয় স্থান, খরচ এর বিস্তারিত"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2023 নেত্র আলাপ

About Us    Contact us  DMCA / Copyrights Disclaimer   Sitemap  Terms & Conditions  

Privacy Policy

Theme Customized BY WooHostBD